December 3, 2022, 4:21 pm

News Headline :
কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা। ঘরে বসে শিখুন ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কালীগঞ্জে বন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন। ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করলেন-আফতাবুজ্জামান দুলাল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ৩২নং ওয়ার্ড রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ তরুণ যুব সমাজকে খেলাধূলায় এগিয়ে আসার আহবান জানালেন – আবু হানিফ চয়ন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধূলার বিকল্প নেই – আবু হানিফ চয়ন। ২৬নং ওয়ার্ড রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাতির পিতার আদর্শে সকলকে উজ্জীবীত হওয়ার আহবান জানালেন- মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। আসুন সকলে মিলে একটি করে ফলজ বৃক্ষ রোপণ করি – আবু হানিফ চয়ন
প্রকৃতি ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক-রাকিবুজ্জামান আহমেদ।

প্রকৃতি ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক-রাকিবুজ্জামান আহমেদ।

কবি মোস্তফা হায়দারের ভাষায়-
এই মৃত্তিকা শোধ নিতে জানে, গ্রহণ শেষে
ভালোবাসার বাগান খুলে।

প্রকৃতি মানুষ ছাড়া বাঁচতে পারে। কিন্তু মানুষ প্রকৃতিহীন বেঁচে থাকা—অসাধ্যপর। আবার প্রকৃতি মানুষ থেকে কিছুই না নিয়ে বাঁচতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির সাহায্য ছাড়া জীবনযাপন, মানুষের জন্য অসম্ভব। মানুষের উপকারার্থেই মহান আল্লাহ প্রকৃতি সৃজন করেছেন। কোরআন-হাদিসে এ মর্মে বক্তব্য ও দিক-নির্দেশনা এসেছে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—‘আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি ও এতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং আমি পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তু সুপরিমিতভাবে উত্পন্ন করেছি। আমি তোমাদের জন্য তাতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি এবং তোমরা যাদের রিজিকদাতা নও, তাদের জন্যও। প্রতিটি বস্তুর ভাণ্ডার আমার কাছে আছে এবং আমি তা প্রয়োজনীয় পরিমাণেই সরবরাহ করে থাকি। আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু প্রেরণ করি, অতঃপর আকাশ থেকে বারিধারা বর্ষণ করি এবং তা তোমাদের পান করতে দিই, বস্তুত এর ভাণ্ডার তোমাদের কাছে নেই।’ (সুরা হিজর, আয়াত: ১৯-২২)

একটু লক্ষ্য করে দেখুন, আমাদের জীবনযাত্রার সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে পুরো পৃথিবীটা। দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। যান্ত্রিক নগরীতে মানুষের কোলাহল কমেছে। দীর্ঘ যানজটের দেখা নেই কয়েকমাস। যানবাহনের বিষাক্ত কালো ধোঁয়া কমেছে বহুগুণে। কয়েকমাস কল-কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় বায়ু দূষণ কমেছে। গাড়ির অপ্রয়োজনীয় হর্নের অসহ্য প্যাপু শব্দের সাথে সাথে থেমে গেছে রিক্সার ক্রিং ক্রিং কর্কট শব্দ। যে নগরীর দিন শুরু হতো ছুটে চলার মধ্যদিয়ে, এখন অলস সময় পার করছে। পাল্টে গেছে নগরের, নগরীর মানুষের চিরচেনা রূপ। এ পরিবর্তন যেন অনেকটা স্বপ্নের মতো!

বিখ্যাত কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ বলেছেন, প্রকৃতি কখনো হৃদয় আর ভালোবাসার সঙ্গে ধোঁকা দিতে পারে না।

কিন্তু আমরা যারা নিজেদের মানুষ বলে দাবি করি, সেই আমরা হৃদয় ভাঙি, ভালোবাসার সঙ্গে করি মিথ্যাচার। ভাঙাগড়ার খেলায় জলকাদা মিশিয়ে একাকার করে দিই। প্রকৃতিও তখন বিস্মিত হয়।

একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, মানবজাতি প্রকৃতির উপর কী অত্যাচারটাই না এতদিন করছি! সবারই সহ্য, ধৈর্যেরও তো একটা সীমা থাকে। আমাদের প্রাত্যহিক অত্যাচার ও নির্মমতা প্রকৃতিকে দিনেদিনে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়েছে। কে জানে প্রকৃতির এই ভারসাম্যহীনতার জন্যই হয়ত করোনার মতো ভয়ংকর ভাইরাসের সৃষ্টি। অদৃশ্য এক শক্তি যা গোটা বিশ্বের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে।

প্রকৃতির কী বিচার, চায়না, যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডসহ যে সকল দেশের কারণে জলবায়ু সবচেয়ে বেশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব দেশই এখন সবচেয়ে বেশি করোনার শিকার। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কোন কিছু করোনার বিস্তার ঠেকাতে পারছে না। এটা মানবজাতির জন্য প্রকৃতির এক সর্তক বার্তা।

প্রকৃতি ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক। প্রকৃতিকে ভালোবাসা মানে মানুষকে ভালোবাসা। প্রকৃতিকে ভালোবাসা মানে নিজেকেই ভালোবাসা। মানুষ ও প্রকৃতির নৈকট্যই পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। মানুষ যখন প্রকৃতিকে আপন করে নেয়, তখনই সে হয়ে ওঠে প্রকৃতির মানুষ। ভূমি ও বৃক্ষের অত্যন্ত কাছের মানুষ। আর যখনই মানুষ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যায়, তখনই সে নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। সেই সাথে পৃথিবীরও। ফিরিয়ে দাও সেই অরণ্য বলে আক্ষেপ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। শহরে প্রকৃতি নেই বলে ভালোবাসা নেই। স্নেহ মমতা নেই। এই ভালোবাসার টানেই জোড়াসাঁকোর রবীন্দ্রনাথ পদ্মার পাড়ে ছুঁটে গিয়েছিলেন।

তার কাব্য, তার গান, তার ছোট গল্পের বিরাট অংশজুড়ে আছে প্রকৃতি। প্রকৃতি মানে কেবল দেখা নয়, কেবল সৌন্দর্য নয়, প্রকৃতি মানে জীবন। প্রকৃতি মানে স্বপ্ন, প্রকৃতি মানে ভালোবাসা।

প্রকৃতি কেবল পাহাড়ে বা সমুদ্রে থাকে না। সমভূমিতেও থাকে। থাকে মানুষের ভালোবাসায়। সেই ভালোবাসা নেই বলেই আজ প্রকৃতি মানুষের প্রতি বিরূপ আচরণ করছে।

মানুষ ভুলে গিয়েছিল আল্লাহর সৃষ্টি সুন্দর এই গ্রহটার উপর তাদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীদেরও অধিকার আছে। আজ অত্যাচারীদের দল ঘরে বসে হা-হুতাশ করছে। অন্যদিকে নির্যাতিত শ্রেণী বাইরে আনন্দ উল্লাস করছে। মানুষ ভেবেছিল এই পৃথিবীর সবকিছু যাচ্ছেতাই ভাবে তাদের ভোগের অধিকার আছে। কিন্তু আসলে যে তা নেই এখন ভালোভাবে বুঝতে পারছে। প্রকৃতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে যে সবকিছু ভোগ করতে হয়, ভোগের সময় মানুষ এই কথাটা মনে রাখে না।

তবে আমাদের এখন নতুন করে ভাবতে হবে- প্রকৃতির ওপর নির্যাতন কমার কারণে সেখানে প্রাণ ফিরে এসেছে। তেমনি মানুষের সঙ্গেও আমাদের একই আচরণ এই সমাজ সভ্যতায় প্রাণ ফিরিয়ে আনবে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়াতে পারলে প্রকৃতির মতো আমাদের জীবনও প্রাণ ফিরে পাবে।

ওয়ার্ডসওয়ার্থ বলেছেন, প্রকৃতির কাছে গেলে মন ভালো হয়ে যায়, প্রকৃতি সুন্দর হলে মনও সুন্দর হয়ে যায়। কিন্তু কোথায় গেলে আর কতটা বোঝালে মানুষ বুঝবে, মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে? বেঁচে থাকার জন্য খুব বেশি কিছু লাগে কি? এমন বিপর্যের মুখোমুখি হয়েও যদি আমরা সেটা বুঝতে না পারি তবে মানুষ হিসেবে আমরা সত্যি অযোগ্য।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন-

‘দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব
বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধি স্থলে
(জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি
বিরাম) মহীর পদে মহা নিদ্রাবৃত
দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন!

রাকিবুজ্জামান আহমেদ এর টাইমলাইন থেকে নেয়া।
লেখকঃ রাকিবুজ্জামান আহমেদ প্রভাষক,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।






Privacy policy

lalkhabor 2016-2021© All rights reserved.

<