Friday 15 April, 2016
International | English Version

৯ দিনে ৬ কোটি সিম নিবন্ধন অসম্ভব! তাহলে কি বন্ধ করে দেয়া হবে কয়েক কোটি সিম?

Thu, Apr 21st, 2016 | Published On: admin

সময় আছে আর মাত্র ৯ দিন। এ সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন না করতে পারলে নানামুখি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ৩০ এপ্রিলের পর একদিনও সময় বৃদ্ধি করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ফলে সময় যত কাছে আসছে ততই শঙ্কার পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, সরকারী প্রজ্ঞাপনের প্রথম ১২০ দিনে (১৭ এপ্রিল পর্যন্ত) আঙুলের ছাপ পদ্ধতিতে মোট ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার সিম সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছে, যা বর্তমানে চালু থাকা মোট ১৩ কোটি ৮ লাখ সিমের ৪৮ শতাংশ। আর আঙুলের ছাপ না মেলাসহ জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকা, সার্ভারের ত্রুটিসহ বেশ কয়েকটি কারণে নিবন্ধন সফল হয়নি ১ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার সিমের। অবশিষ্ট ৫২ শতাংশ সিম নিবন্ধন করতে আগামী ৯ দিনের মধ্যে। যা প্রায় অসম্ভব।বাদ পড়ে যাবে কয়েক কোটি সিম’ এদিকে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই কমতে শুরু করেছে সক্রিয় থাকা মোবাইল সংযোগের (সিম) সংখ্যা। গত তিন মাসেই ২৮ লাখেরও বেশি গ্রাহক হারিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। রেজিস্ট্রেশনে ঝুঁকি বিবেচনা, অনীহা এবং মিল না হওয়ায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ৩ থেকে ৪ কোটি সিম। ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সিম নিবন্ধন শেষ হলে মোবাইল গ্রাহক ১৩ কোটি ৩৭ লাখ থেকে ৮ থেকে ৯ কোটির মধ্যে চলে আসতে পারে। এতো বিপুল সংখ্যক সিম বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়বে মোবাইল অপারেটরদের আয় এবং সরকারের রাজস্বে।

আঙুলের ছাপ ও তথ্য না মেলায় নিবন্ধিত হয়নি ১ কোটি সিম

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬২ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের আঙুলের ছাপ না মেলায় সিম নিবন্ধন সফল হয়নি। পরিচয়পত্র পাওয়া না যাওয়ায় সফল হয়নি আরও ৩৪ লাখ ৯০ হাজার সিমের নিবন্ধন। এ ছাড়া সার্ভারে ত্রুটির কারণে ৩ লাখ ৯০ হাজার ও অন্যান্য কারণে আরও ৪ লাখ ৩০ হাজার সিমের নিবন্ধন সফল হয়নি। সব মিলে আঙুলের ছাপ ও তথ্য না মেলায় নিবন্ধিত হয়নি ১ কোটি সিম। নিবন্ধন সফল না হওয়া সিমের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এসব গ্রাহক প্রকৃত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী। এজন্য তারা নিবন্ধন করতে গিয়েছিলেন। তাদের ত্রুটির বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায় তা দেখা হচ্ছে। তাদের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির পাশাপাশি অন্যান্য বৈধ পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কমছে গ্রাহক সংখ্যা আঙুলের ছাপে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই প্রতিমাসে ১০ লাখ করে কমছে সক্রিয় থাকা মোবাইল ফোন গ্রাহক। গত তিন মাসেই ২৮ লাখ সক্রিয় সিম কমে গেছে। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, মাঝে কিছুটা ভাটা পড়লেও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আদালত বৈধ ঘোষণার পর নিবন্ধন করতে গ্রাহকের আগ্রহ এখন আবার বেড়েছে। গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট এ পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনকে বৈধ বলে রায় দেন। তবে মোবাইল ফোন অপারেটরসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে ৩ থেকে ৪ কোটি সিম অনিবন্ধিত থাকবে এবং সরকার বন্ধ করে দিলে এই বিপুল পরিমাণ গ্রাহক কমে যাবে। বিটিআরসির তথ্য অনুসারে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংযোগ ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার। ৩১ জানুয়ারিতে তা কমে ১৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজারে দাঁড়ায়। ফেব্রুয়ারির শেষে দাঁড়ায় ১৩ কোটি ১০ লাখ ৮৫ হাজারে। মার্চের শেষ নাগাদ আরো দুই লাখ চার হাজার কমে ১৩ কোটি আট লাখ ৮১ হাজারে দাঁড়ায়। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংযোগ কমেছে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার।
রাজস্ব হারাবে সরকার| বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যার ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে না। একই সাথে প্রভাব পড়ছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের আয় এবং সরকারের রাজস্বেও। যদিও এখনো পর্যন্ত এটি তেমনভাবে চোখে পড়ছে না, নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হলেই এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর থেকেই অপারেটরগুলো তাদের গ্রাহক হারাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের আয়ে। এছাড়া রাজস্ব পরিশোধ করা সিমগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অপারেটরগুলো নানাভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন সিম বিক্রিও কমে যাওয়ায় সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

বন্ধের পথে সিম ও স্ক্র্যাচ কার্ডের কারখানা| একসময় মোবাইল ফোনের সিম (সাবসক্রাইবার আইডেনটিটি মডিউল) কার্ড ও স্ক্র্যাচ কার্ড আমদানি করা হতো। ২০০৭ সালে সিল্কওয়ে নামের একটি প্রতিষ্ঠান দেশেই এসবের উত্পাদন শুরু করে। আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান সিম কার্ড ও স্ক্র্যাচ কার্ড তৈরি করছে। এগুলো হচ্ছে ইস্টকমপিস, আইসিএল ও ফনস। সাশ্রয়ী হওয়ায় দেশে উত্পাদিত সিম কার্ড ও স্ক্র্যাচ কার্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে মোবাইল ফোন অপারেটররাও। তবে সংযোগসংখ্যা দ্রুত কমতে থাকায় সেসবের চাহিদা কমেছে। শীর্ষস্থানীয় একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান জানিয়ে দিয়েছে, আগামী জুলাই মাসের আগে তাদের সিম কার্ডের প্রয়োজন হবে না। অবিক্রীত যেসব সিম কার্ড রয়ে গেছে তাতেই এ কমাস চলে যাবে। এ ব্যাপারে সিল্কওয়ের নির্বাহী পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁদের কারখানার দিনে আড়াই লাখ সিম কার্ড ও এক কোটি স্ক্র্যাচ কার্ড উত্পাদনের ক্ষমতা রয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে একসময় মাসে প্রায় ৫০ লাখ সিম কার্ডের অর্ডার আসত। কয়েক মাস ধরে তাদের চাহিদা ২০ লাখ কার্ড।

This Post Has Been Viewed 76 Times