Friday 15 April, 2016
International | English Version

বাংলাদেশে ফেসবুকের নতুন কর্মসূচি

Mon, Apr 10th, 2017 | Published On: admin

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম- ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

সিঙ্গাপুরে সম্প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সোমবার (১০ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পোস্ট বা ভিডিও সরানো হবে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট বা ভিডিও’র মাধ্যমে যে সহিংসতা হয়, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ফেসবুক, ডাক ও টেলিযোযোগ বিভাগ এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের সঙ্গে একটি দৃশ্যমান কর্মসূচি গ্রহণ করবে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যে সচেতনতার আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে সেটি খুব দৃশ্যমান হবে।

ফেসবুক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বুস্ট করার জন্য বাংলাদেশে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত এসএমই আছে সেগুলো কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে আরও প্রসার ঘটানো যায়, এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের মামলার তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ফোকাল পয়েন্টদের নাম ফেসবুকের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ হেড কোয়ার্টার, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিবি পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন থেকে ফোকাল পয়েন্ট পাঠাবেন; যা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।

‘‘নামগুলো তাদের কাছে গেলে বিভিন্ন তদন্তাধীন ক্ষেত্রে এবং মামলার ক্ষেত্রে ফোকাল পয়েন্টরা যে তথ্য চাবেন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সেক্ষেত্রে যথাযথ সহায়তা করবেন। এছাড়াও ফোকাল পয়েন্টরা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ট্রেনিং ও আলাপ আলোচনার জন্য সিঙ্গাপুরে যাবেন। এতে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হবে, যাতে তারা কোনো তথ্য চাইবে সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারে।’’

আপত্তিকর পোস্ট সরাবে ফেসবুক
তারানা হালিম বলেন, যে পোস্টগুলোর বিষয়ে আপত্তি থাকে সেখানে অনেকগুলো ঘর আছে। কোনোটিতে বলা হয় এটি মানহানিকর কিনা। আমরা প্রস্তাব রেখেছি এই ঘরের মধ্যে একটি ছক যুক্ত হবে, যেখানে ভিকটিমকে জিজ্ঞাস করা হবে আপনার এই পোস্ট বা ভিডিও সম্পর্কে আপনার মানসিক অবস্থা কি? এই ঘরটি যখন একজন ভিকটিম পূরণ করবেন তখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষের জন্য বুঝতে সহজ হবে যে ওই পোস্টটির কারণে তার মানসিক অবস্থাটা কি রকম। সেটি যদি এমন হয় যে আমার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করছে, তখন সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাড়া দিয়ে পোস্ট বা ভিডিওটি যেন অপসারণ করে।

পোস্ট বা ভিডিও অপসারণে তারা সম্মত হয়েছেন। ছকটি যুক্ত করার বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিবাচকভাবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন, কারণ এটি নীতি নির্ধারণী বিষয়।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক
এক প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম জানান, তারা আন্তরিক। কোনো রকমভাবে জঙ্গিবাদকে সমর্থন করেন না। জঙ্গিবাদকে উৎসাহ প্রদান করে এমন কনটেন্ট নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। শুধু বাংলাদেশের না, সমস্ত বিশ্বে জঙ্গিবাদি ও ধর্মীয় উগ্রবাদী বিভিন্ন পোস্টের বিষয়ে তারা বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপসারণ করবেন।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি বুঝছে ফেসবুক
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের অঞ্চলের সংস্কৃতি যেহেতু একই রকম, তোমাদের বুঝতে সাহায্য করার জন্য কিছু করা যায় কিনা- তখন তারা বললেন, মোটা-মুটিভাবে এখন তারা আলাদা ডেস্কের মতোই কাজ করছেন। এশিয়ার অনেক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা বাংলা ভাষা এবং হিন্দি ও অন্যান্য ভাষায় পারদর্শী, তারা কনটেন্টগুলো বুঝতে পারেন। আমরা অনুরোধ করেছি, যেগুলো একেবারেই বুলিং পর্যায়ে পড়ে, যেগুলো চূড়ান্ত মানহানিকর, সেগুলোর ব্যাপারে তাদের বলেছি দ্রুত সাড়া দিতে। এগুলো এত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় যে ওই ব্যক্তির মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবেন।

জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬৩-৬৫ শতাংশ অভিযোগের সাড়া এসেছে বলে জানান তারানা হালিম।

গত ৩০ মার্চ সিঙ্গাপুরে ফেসবুকের ম্যানেজার ট্রাস্ট অ্যান্ড সেইফটি (সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া) এর সঙ্গে বৈঠক করেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।

ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনায় এজেন্ডার শতভাগ পূরণ হয়েছে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, ভবিষতেও আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আলাপ হয়নি। ভবিষতে এ বিষয়টিও তুলে ধরবো।

ভবিষ্যতে আইসিটি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারানা হালিম।

This Post Has Been Viewed 6 Times