Friday 15 April, 2016
International | English Version

গ্লাস ভাঙ্গলে, বাসন ভাঙ্গলে বিবিসাবরা মাইর-ধোর করে, নির্যাতন করে”

Fri, May 6th, 2016 | Published On: admin

তাদের সাহায্য ছাড়া ঢাকার মধ্যবিত্তের জীবন অচল। রান্না-বান্না, কাপড়-ধোয়া, ঘর পরিস্কার থেকে শিশু সন্তানদের দেখা-শোনা, সব কিছুর জন্যই নির্ভর করতে হয় এই গৃহকর্মীদের ওপর।

কিন্তু তাদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত? ঢাকায় আজ কয়েক হাজার গৃহকর্মী এক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন নিজেদের অধিকার রক্ষার দাবিতে।

সেখানে তারা তুলে ধরেছেন নিজেদের নানা নির্মম অভিজ্ঞতার কথা। তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য গৃহ শ্রমিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকার কাঠালবাগান এলাকার একটি বাসায় পনেরো বছর ধরে গৃহ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন পঞ্চাশোর্ধ মোসাম্মৎ মালতী। এই পরিবারের শিশু সন্তান দুটোকে তিনিই লালন পালন করে বড় করে তুলেছেন। তিনিই ঘরের সমস্ত কাজকর্ম করেন।

বাসার কর্ত্রী শিখা রহমান বলেন, “ নীতিমালা বা আইন করার উদ্যোগটি ভাল। কিন্তু তারাও এমনকিছু কাজ করে যেমন বিনোদন প্রসঙ্গে তারা তো কাজ শেষ করে বিনোদন নেবে। কিন্তু তারা সারাদিনই বিনোদন চায়। দেখা যায় টিভি চলতে থাকলে কাজ রেখে , তরকারি পুড়ে যাচ্ছে, পানির কল ছেড়ে এসেছে পানি পড়ে যাচ্ছে তারা দাড়িয়ে দাড়িয়ে টিভি দেখছে। এসব বিষয়েও নীতিমালা থাকা দরকার”।

গৃহ শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে অনুমোদিত নীতিমালা অনুসারে মাতৃত্ব কালীন ছুটি ও বেতন, নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা, বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শ্রমিকরা অসুস্থ হলে নিয়োগদাতাকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে বলা হয়েছে। তবে যেসব শ্রমিকরা বাসা-বাড়িতে কাজ করেন তারা নিজেদের অধিকারের প্রসঙ্গে কতটা জানেন?

দেখা গেল এদের অনেকেই জানেন না কি অধিকার নীতিমালায় আছে এবং তা পেলে কি লাভ হবে? শুধু জানেন তাদের মজুরি কম, গর্ভকালীন কিংবা মাতৃত্বকালীণ ছুটি নেই, সে সময়কার বেতন তো দূরের কথা। তার ওপরে বকাঝকা মারধোর তো রয়েছেই। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনার কথাও বলছেন তারা।

জাতীয় গার্হস্থ্য শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রম অধিকার ফোরামের উদ্যোগে সম্মেলনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজনের মধ্যে লাভলী আক্তার বলছিলেন, “অনেক অভিজ্ঞতা আছে। তারা নির্যাতন করে। বউ রাইখা কাজের মেয়ের সাথে শুইতে আসে, আবার বস্তা ভইরা ফালাইয়া দেয়। নিপীড়ন করে। এটার জন্য আমরা আইন চাই”।

একজন বলছিলেন, গর্ভবতী হয়ে তাকে কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

আরেকজন গৃহ শ্রমিক বলছেন, “গ্লাস ভাঙলে, বাসন ভাঙলে বিবিসাবরা মাইরধোর করে, নির্যাতন করে”।

অনেক গৃহ শ্রমিক মনে করে বিভিন্ন বাসায় কাজ করে তারা যা পাচ্ছেন তা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্য। আবার বিভিন্ন সময় তাদের মানবিক অনেক বিষয় উপেক্ষিত থেকে যায়। শহরের একটি বস্তিতে কথা হচ্ছিল কজন গৃহ-শ্রমিকের সাথে।

গৃহ শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন যারা তারা বলছেন দেশে শ্রম খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত ও অবহেলিত গৃহস্থালি কাজের শ্রমিকেরা। কারণ তাদের অধিকারের বিষয়গুলো চার দেয়ালের বাইরে আসেনা সহজে। ফলে তদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বাংলাদেশেরওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, এটা বাস্তবায়নে লম্বা সময় লাগবে। তবে আইনি প্রক্রিয়া যদি কঠোরভাবে শুরু করা যায় তাহলে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা যাবে।

This Post Has Been Viewed 31 Times